ঢাকা , বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ , ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতের উপকূলে অর্ণবের তাণ্ডব, আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় দুই লাখ মানুষ

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ২৮-১০-২০২৬ ১২:২০:২৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২৮-১০-২০২৬ ১২:২২:৩৭ অপরাহ্ন
ভারতের উপকূলে অর্ণবের তাণ্ডব, আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় দুই লাখ মানুষ ​ছবি: সংগৃহীত
সর্বোচ্চ ১৫০ কিলোমিটার বেগের ঝোড়ো হাওয়া, ভারী বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাস নিয়ে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হেনেছে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দুই রাজ্যে ১ লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় ভোরে অন্ধ্রপ্রদেশ ও পুদুচেরির ইয়ানাম উপকূলের কাছাকাছি এলাকা দিয়ে ঘূর্ণিঝড়টি স্থলভাগে প্রবেশ করতে শুরু করে। ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের বরাত দিয়ে এনডিটিভি ও টাইমস অব ইন্ডিয়া এ তথ্য জানিয়েছে।

আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, উপকূল অতিক্রমের সময় ঘূর্ণিঝড়টির একটানা বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছায়। স্থলভাগে পুরোপুরি প্রবেশের পর উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বৃষ্টি ঝরিয়ে ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়তে পারে ঝড়টি।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। উপকূলীয় নিচু এলাকাগুলোতে জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কায় আগেই সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। স্বাভাবিকের চেয়ে ১ থেকে দেড় মিটার উঁচু জলোচ্ছ্বাসে এসব এলাকা প্লাবিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছিল আবহাওয়া বিভাগ।

উপড়ে গেছে হাজারো বিদ্যুতের খুঁটি

ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়া, বিশাখাপত্তনম, অমলাপুরম ও কোনাসীমা জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভারী বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসে কোনাসীমা জেলাতেই প্রায় ৬ হাজার বিদ্যুতের খুঁটি এবং বিপুলসংখ্যক গাছ উপড়ে গেছে। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, কোথাও কোথাও দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা।

বিশাখাপত্তনমে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বুধবার ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ২১৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে কালিঙ্গাপত্তমে ১৪৭, কাকিনাড়ায় ১১৮ এবং মাচিলিপত্তমে ১১৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। দুর্যোগের কারণে বিশাখাপত্তনম ও বিজয়ওয়াড়া বিমানবন্দর থেকে বুধবারের একাধিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে বেশ কিছু ট্রেন পরিষেবা। অন্ধ্রপ্রদেশের ৬০৯টি স্কুলকে আশ্রয়কেন্দ্রে রূপান্তর করা হয়েছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত দুই রাজ্যে প্রাণহানির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ওড়িশায় উদ্ধারকাজে ৩১৩ দল ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় ওড়িশায় উদ্ধার ও জরুরি সেবার ৩১৩টি দল মোতায়েন করা হয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব দলের মধ্যে রয়েছে ওড়িশা দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর ৬০টি, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) ৯টি এবং দমকল ও জরুরি সেবার ২৪৪টি দল।

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দুই হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য ভূমিধসের ঝুঁকি বিবেচনায় কিছু সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। ঝুঁকিতে থাকা অন্তঃসত্ত্বা নারীদেরও নিরাপদে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ভারতের আবহাওয়া দপ্তর ওড়িশার কয়েকটি জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা দিয়েছে। গঞ্জাম, গজপতি, রায়গড়া ও নবরংপুর জেলায় ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার বেগে বাতাস এবং দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড়টির সরাসরি প্রভাব পশ্চিমবঙ্গে না পড়লেও মঙ্গলবার রাত থেকে কলকাতা, হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। আনন্দবাজারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেখানেও এখন পর্যন্ত প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশে বড় প্রভাবের আশঙ্কা নেই

বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ থেকে সোমবার (২৬ অক্টোবর) ভোরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়টি ধীরে ধীরে শক্তি সঞ্চয় করে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা ও এসক্যাপের প্যানেলে ঘূর্ণিঝড়টির ‘অর্ণব’ নাম প্রস্তাব করেছিল বাংলাদেশ। বাংলায় অর্ণব শব্দের অর্থ সমুদ্র বা মহাসমুদ্র।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলেছে বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর।

তবে বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার দেশের আট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা, খুলনা, বরিশালসহ অন্যান্য বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। এরপর বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ